Wednesday, 11 March 2020

সব জেনেও না জানার ভানের খেসারত দিতে হচ্ছে সোনিয়া , রাহুলদের

ওয়েব ডেস্ক ১১ ই  মার্চ ২০২০ :ঠাকুমা  বিজয়রাজে সিন্ধিয়া ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগ দিয়েছিলেন জনসংঘে। বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়া ১৯৮৪ সালে জনসংঘ ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। আর ২০২০ সালে ১০ মার্চ রঙের খেলা হোলির দিনে বিজেপিতে যোগ দিলেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। আর এ জন্য বেছে নিলেন বাবা, প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাধব রাও সিন্ধিয়ার ৭৫তম জন্মবার্ষিকীকে। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেসে নেতারা যখন প্রয়াত মাধব রাওয়ের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, তখন অমিত শাহর সঙ্গী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন জ্যোতিরাদিত্য।
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া সোমবারই কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন। কালই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন জ্যোতিরাদিত্য। স্পষ্ট হয়, তিনি গেরুয়া শিবিরে যাচ্ছেন। একা যাচ্ছেন না। তাঁর সঙ্গে জুটেছেন মধ্যপ্রদেশের ১৯ বিধায়ক। তাঁরা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা। কর্ণাটক দখলে যতটুকু কষ্ট করতে হয়েছিল, এবার তাও লাগবে না বিজেপির। একই সিঁদুরে মেঘ চোখ রাঙাচ্ছে রাজস্থানে। ছয় বছর আগে ভারতের ক্ষমতা হারানো কংগ্রেসের দখলে এখনো আছে ৫টি রাজ্য। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানই বড়। কিন্তু প্রথমটি প্রায় হাতছাড়া; দ্বিতীয়টি হয়তো ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে।
হোলির দিনে  প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ রাজনৈতিক হোলি খেলার চূড়ান্ত রূপ দেখালেন। মহারাষ্ট্রে শারদ পাওয়ারের ঘর ভাঙার পরও মুখ থেকে কংগ্রেস যে খাবার কেড়ে নিয়েছিল, তার বড় প্রতিশোধ এটি। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ‘রাজপুত্রের’ এ দলবদলকে এখন নিছক রাজনৈতিক রেষারেষির বৃত্তের মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। এক সিন্ধিয়া চলে যাওয়ার পর একেবারে অকূলপাথারে হয়তো পড়ে যাবে না দলটি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা একে দেখছেন কেন্দ্রে ক্ষমতাহারা, বেশির ভাগ রাজ্যহারা কংগ্রেসের বিপর্যয় হিসেবে। যার জন্য দলটির নেতৃত্বের দায়ভার অনেকটাই। এক দীর্ঘ অচলায়তনের বিরুদ্ধে আর এ দলত্যাগ দলটির জন্য অশনিসংকেতও বটে। অনেকে বলছেন, সিন্ধিয়ার চলে যাওয়া দলের ভেতরে দীর্ঘদিন দিন ধরে চলে আসা নবীন-প্রবীণের লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ। এখন আরও কোণঠাসা নবীনেরা চলে যাওয়ার পথ খুঁজবেন। হিন্দুস্থান টাইমসের সম্পাদকীয় পরিচালক বীর সিংভি টুইটারে লিখেছেন, ‘সিন্ধিয়া চলে গিয়ে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার কাজটি করে গেলেন। যেসব তরুণ নেতৃত্ব দল ছাড়ার পথ খুঁজছেন, তাঁরা এখন উৎসাহিত হবেন।’

No comments:

Post a comment

loading...