Monday, 6 April 2020

মুম্বইয়ের ওখার্ড হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসক ও নার্স ভাইরাসে আক্রান্ত

ওয়েব ডেস্ক ৬ই এপ্রিল ২০২০ :ভারতে করোনাভাইরাস ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সাধারণ লোকজনের পাশাপাশি দেশের  বিপুল সংখ্যক চিকিৎসাকর্মীও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।দেশে  কমপক্ষে ৩০ জন চিকিৎসক ও নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৬ জনই নার্স। বাকিরা ডাক্তার। তারা সবাই মুম্বইয়ের ওখার্ড হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ চিকিৎসাকর্মী আক্রান্ত হওয়ার পর মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতালকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে সেখানে সবার ঢোকা-বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছে মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়েও।হাসপাতালের মধ্যেই এত বিপুল সংখ্যক নার্স ও চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ মুম্বাই পৌরসভা প্রশাসন।
অতিরিক্ত পুর কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে স্বাস্থ্য পরিষেবার চৌহদ্দির মধ্যে এত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল।’
ওই হাসপাতালের এত বিপুল সংখ্যক কর্মী কীভাবে সংক্রমিত হলেন, তা খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।হাসপাতালের মধ্যেই এত বিপুল সংখ্যক নার্স ও চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ মুম্বাই পৌরসভা প্রশাসন।অতিরিক্ত পুর কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে স্বাস্থ্য পরিষেবার চৌহদ্দির মধ্যে এত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল।’ওই হাসপাতালের এত বিপুল সংখ্যক কর্মী কীভাবে সংক্রমিত হলেন, তা খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই আক্রান্তের খবর ছড়াতেই হাসপাতালের আউটডোর ও এমার্জেন্সি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে রোগী, চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী‌ কাউকেই হাসপাতালে ঢুকতে বা বাইরে বেরোতে দেওয়া হবে না। সেখানকার রোগী, চিকিৎসক-নার্স এবং কর্মীদের খাবার দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র ক্যান্টিন খোলা থাকবে।

আর হাসপাতালের এই লকডাউন তদারকির জন্য সেখানকার গেটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দু’বার কোভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট এলে তবেই তাদের বাইরে বেরনোর অনুমতি মিলবে।

ওখার্ড হাসপাতালের নার্সদের কোয়ার্টার্স রয়েছে ভিলে পার্লে এলাকায়। আক্রান্ত নার্সদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্ত তিন চিকিৎসককে ভর্তি করা হয়েছে মাহিমের এসএল রাহেজা হাসপাতালে।পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য কর্মী মিলিয়ে ২৭০ জনের লালারসের নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

এ ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চে ৭০ বছরের এক করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনার মাত্র দু’দিন পরই ওই বৃদ্ধের তদারকির দায়িত্বে থাকা দুই নার্স-ও করোনায় আক্রান্ত হন। কিন্তু এই ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

আক্রান্ত ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা অন্য নার্স ও রুমমেটদের পর্যন্ত কোভিড-১৯ পরীক্ষা বা কোয়রেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি।

আক্রান্ত দুই নার্সের পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক) ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, ওই দুই নার্সের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরেও তাদের ডিউটি থেকে সরানো হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে ইউনাইটেড নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন।

তবে এসব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তারা কোনও বক্তব্য দিতেও রাজি হননি।

No comments:

Post a comment

loading...