Wednesday, 1 April 2020

করোনার ভাইরাস ছড়িয়েছে ‘মারকাজে নিজামুদ্দিন, ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সিল কেন্দ্রের

ওয়েব ডেস্ক ১ লা এপ্রিল ২০২০ : দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের সদর দফতরে একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে ঘরে ফেরা অন্তত ৭ জন, কারও কারও মতে ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই মসজিদটিকে ভারতে মহামারি ছড়ানোর অন্যতম ‘হটস্পট’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
‘মারকাজে নিজামুদ্দিন’ নামে পরিচিত ওই মসজিদটিতে একটি ধর্মীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ মাসের মাঝামাঝি অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার লোক সমবেত হয়েছিলেন। শহরের একটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকায় একটি ৬ তলা ভবনের ডর্মিটরিতে তারা সবাই গাদাগাদি করে ছিলেন।
এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুসলিমরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন বহু বিদেশি নাগরিকও।
ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার পর সোমবার (৩০ মার্চ) তেলেঙ্গানাতে ৬ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন।
এর আগে নিজামুদ্দিন থেকে ফিরে গিয়ে কাশ্মীরের এক ধর্মীয় নেতাও শ্রীনগরে কয়েকদিন আগে মারা যান। তিনি আবার কাশ্মীরে ফেরার আগে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দেও ঘুরে যান এবং কাশ্মীরে গিয়েও বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেন।

তামিল নাডুতে দু’টি এবং দিল্লিতে আরও একটি করোনাভাইরাস-জনিত মৃত্যুর সঙ্গেও দিল্লির এই তাবলীগ জামাতের সংযোগ টানা হচ্ছে, যদিও সেই দাবি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।

মারকাজে নিজামুদ্দিনে অবস্থানরত প্রায় ৩০০ ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসের মতো উপসর্গ নিয়ে সোমবার দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৪ জনের পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ এসেছে।

নিজামুদ্দিনের ঘিঞ্জি এলাকার ভেতর অবস্থিত ওই ৬ তলা মসজিদ ভবনটিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে পুলিশ সিল করে দেয়।
ভেতরে তখনও যে সাতশোর মতো লোক ছিলেন তাদের সবাইকে সরকারি বাসে করে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

নিজামুদ্দিনের বেশ কাছেই দিল্লির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম - প্রয়োজনে সেটিকেও মেকশিফট হাসপাতালে রূপান্তরিত করে ওই এলাকার রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দিল্লিতে তাবলিগ জামাত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চূড়ান্ত অবহেলার অভিযোগে পুলিশ একটি এফআইআরও দাখিল করেছে।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, ওই ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজকরা এভাবে শত শত লোককে নিয়ে সভা করে বিরাট বড় অপরাধ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়া হয় সেই সুপারিশ করে আমরা দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছেও চিঠি লিখেছি।

তাবলীগ জামাতের মূল সমাবেশটি ছিল মার্চের ৮ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত। তবে তার অনেক আগে থেকে এবং তারপরেও শত শত ব্যক্তি ওই মারকাজ নিজামুদ্দিনে অবস্থান করছিলেন।

তাদের মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরঘিস্তান, সৌদি, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, জিবুতি, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স বা কুয়েতের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় তিনশো তাবলীগ সদস্যও ছিলেন।

No comments:

Post a comment

loading...