Thursday, 16 April 2020

শেষ পর্যন্ত ভাগাড়ের কলা খেয়ে কয়েকটা দিন কাটাচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকেরা

ওয়েব ডেস্ক ১৬ই এপ্রিল ২০২০:ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া কলা কুড়িয়ে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে দেশের  অভিবাসী শ্রমিকেরা। বুধবার বিকেলে দিল্লির যমুনা নদীর তীরে এক ভাগাড়ে এভাবে কলা সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে তাদের । ভাগাড়ে ফেলে  দেওয়া কলার মধ্য থেকে তারা নুন্যতম খাওয়ার যোগ্যটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে  চলমান লকডাউনের মেয়াদ আগামী ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লকডাউনের কারণে রোজগার হারিয়েছেন হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক। পরিবহন বন্ধ থাকায় ফিরতে পারেননি বাড়িতেও। ভারত সরকার এসব শ্রমিককে বিনামূল্যে খাবার ও আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বেশিরভাগই তা পাননি।গত মঙ্গলবার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণার পরই বিভিন্ন রাজ্যের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে এসব শ্রমিকেরা।
সূত্রের খবর অনুসারে , যমুনা নদীর নিগামবধ ঘাটের কাছে একটি ভাগাড়ে কলা ফেলে দেওয়া হয়।  রাজধানী শহরের অন্যতম মূল ভাগাড় এটি। ধারণা করা হচ্ছে কোনও মৃত মানুষের শেষকৃত্য শেষে এগুলো ফেলে দেওয়া হয়।সেখানে কলা কুড়াতে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘এগুলো কলা... সহজে নষ্ট হয় না। একটু ভালো করে নিতে পারলে আমরা আরও কয়েক দিন টিকে থাকতে পারবো।’ উত্তর প্রদেশের আলীগড় থেকে আসা এক অভিবাসী শ্রমিক বলেন, ‘নিয়মিত খেতে পাই না, সেকারণে এগুলো নেওয়াই ভালো।’
আগে সচরাচর চোখে না পড়লেও এখন নিয়মিতই দিল্লির রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অনেককেই ঘুমাতে দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ করে আরোপিত লকডাউনে যমুনা নদীর তীরে অনেক অভিবাসী শ্রমিকই আটকা পড়েছে। অন্য অনেকের মতো এসব শ্রমিকেরাও রাতারাতি কাজ হারিয়েছেন, খাবার আর আশ্রয়ের ব্যবস্থাও নেই তাদের। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়িও ফিরতে পারছেন না তারা।

এসব শ্রমিকদের অনেককেই রাজ্য সরকার আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই দিয়েছে। এরকম এক কেন্দ্রে আশ্রয় পেয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জগদিশ কুমার। তবে অপর দুই সঙ্গির মারামারির সময় সেই আশ্রয়টি পুড়ে যায়। তারপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে পুলিশের চোখ এড়িয়ে ঘুমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বারেইলির এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘দুই দিন পর আজ একটি গুরুদুয়ারায় খাবার পেয়েছি।’

অভিবাসী শ্রমিকদের আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার খবর সামনে আসার পর দিল্লির রাজ্য সরকার তাদের স্কুলে আশ্রয় দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। দিল্লির আরবান শেল্টার বোর্ডের ভিপিন রায় বলেন, ‘আমরা স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করে  তাদের সেখানে নিয়ে যাচ্ছি।’

গত মঙ্গলবার ২১ দিনের লকডাউন শেষ হলে কিছু ত্রাণের আশা করেছিলেন আশ্রয় পাওয়া শ্রমিকেরা। কিন্তু মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণায় তারা আরও মরিয়া হয়ে ওঠেন।

No comments:

Post a Comment

loading...