Tuesday, 28 April 2020

আলিমুদ্দিন যা করার সদিচ্ছে দেখায়নি , তৃণমূল সংসদ অর্পিতা তাই করেই আশীর্বাদ গ্রহণ করলেন

ওয়েব ডেস্ক ২৮ শে এপ্রিল ২০২০:জন্ম থেকেই দুটি পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ নেই। প্রতিবন্ধী এই মহিলার সংসার বলতে রয়েছে দুটি সন্তান। এতদিন ভিক্ষা করে কোনওরকমে তাঁর সংসার চলছিল। কিন্তু করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের আবহে লকডাউন শুরু হওয়ায় ভিক্ষাবৃত্তি চরম সংকটের মুখে পড়ে। ছোঁয়া বা স্পর্শের আতঙ্ক থাকায় ভিক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী ভিখারি মহিলার দুর্দশার কাহিনী কোন সহৃদয় ব্যক্তি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। সেই ভিডিও ফেসবুকে দেখে আন্তরিকভাবে দুঃখিত হন রাজ্যসভার সাংসদ তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ। তারপর অনেক চেষ্টায় এই ভিখারি মহিলাকে খুঁজে বের করে মঙ্গলবার দুপুরে তার জরাজীর্ন কুটিরে যায় সাংসদের লোকজন।
চরম দুঃসময়ে অর্পিতা দেবীর পাঠানো সাহায্য পেয়ে কৃতজ্ঞতায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নি হত দরিদ্র এই মহিলা। অভাবগ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী এই ভিখারি মহিলার নাম মুংলি মুর্মু (৩০)। তাঁর বাড়ি কুমারগঞ্জ থানার বটুন গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৈতাড়া গ্রামে।সাংসদ অর্পিতা ঘোষের পাঠানো সাহায্য নিয়ে এদিন দুপুরে ভিখারি মুংলি মুর্মুর বাড়িতে পৌঁছে যান কুমারগঞ্জ ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক গুহ ও তার দলের লোকজন। সেখানে সাংসদের পাঠানো দুটি শাড়ি, দুটি শিশু সন্তানের জন্য জামা কাপড়, চাল, ডাল, আলু, সয়াবিন, আটা, সর্ষের তেল, শিশুখাদ্য, সাবান, মাস্ক ইত্যাদি নানান সামগ্রী। এরপর সাংসদের ফোন নম্বর লিখে দিয়ে যেকোন সমস্যায় পড়লে ফোন করার পরামর্শ দেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা। পরে অভিষেক গুহ বলেন, সাংসদ দিদির নির্দেশে ত্রান হিসাবে কিছু মালপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও কাপড়চোপড় দিয়ে গেলাম। এরপর কোন সমস্যা হলে অবশ্যই এসে এই দুর্দশা ক্লিস্ট ভিক্ষুক পরিবারকে দেখে যাব। সিডব্লিউসি চেয়ারম্যান দেবাশীষ মজুমদার জানান, তিনি শীঘ্রই কৈতাড়া গ্রামে গিয়ে মুংলি মুর্মু ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন। তারা যাতে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায় তা অবশ্যই দেখা হবে।ফেসবুকের দৌলতে ও সাংসদ অর্পিতা ঘোষের উদ্যোগে বাড়িতে বসে একেবারে অপ্রত্যাশিত এই সাহায্য পেয়ে ভিখারি মুংলি মুর্মু কৃতজ্ঞতায় তাঁর চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নি। তিনি বলেন, স্বামী বাইরে আছেন। লকডাউনে ভিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি নাবালক সন্তানকে নিয়ে চরম সমস্যায় দিন কাটছিল। এই অবস্থায় আজ এই সাহায্য পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এই খাবারে কিছুদিন ছেলেমেয়ে দুটোর মুখে দুমুঠো দুবেলা একটু কিছু তুলে দিতে পারব। আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই এবং সাংসদ দিদি ও দলের লোকজনদের প্রনাম জানাই।

No comments:

Post a comment

loading...