Friday, 3 April 2020

৯৬০ জনকে আর ভারতের তবলিগ জামাতে অংশগ্রহণ করার জন্য আর ভিসা দেওয়া হবে না

ওয়েব ডেস্ক ৩ রা  এপ্রিল ২০২০ :কেন্দ্র  সরকারের দাবি, দিল্লির এক মসজিদে তবলিগ জামাত সম্মেলনে যোগ দেয়ার কারণেই দেশে  করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এত বেড়েছে। ফলে ওই ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া ৯৬০ জন বিদেশি প্রতিনিধিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে মোদি সরকার।
 কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৭টি দেশ থেকে আগত ওই ৯৬০ জনের ভারতীয় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এবার চলছে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ। এছাড়া তাদের বিরদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও তোড়জোর শুরু করেছে দিল্লি।ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, ভবিষ্যতে ওই ৯৬০ জনকে আর ভারতের তবলিগ জামাতে অংশগ্রহণ করার জন্য আর ভিসা দেওয়া হবে না।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৩০০ প্রতিনিধি দিল্লির ওই তবলিগ জামাতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সব প্রতিনিধি এবং তাদের সংস্পর্শে আসা মিলিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৫৫০ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। আরও অনেকে দিল্লিসহ দেশের ২৩টি রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কোয়রান্টিনে রয়েছেন আরও অনেকে। ফলে এই আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সুস্থ হযে উঠলে তাদের কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে।ভিসা বাতিলের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিস থেকে টুইটারে বলা হয়েছে, ‘ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে তবলিগ জামাতের কার্যক্রমে জড়িত থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৯৬০ জন বিদেশি প্রতিনিধির ভিসা বাতিল করেছে।’

নাম প্রকাশ না করে ওই মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিসা বাতিলের পর এ বার তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’

তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এ প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন,‘ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হবে। কারণ, ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপে যোগ দেওয়া যায় না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ পাঠানো হবে। এছাড়া ওই কালো তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনেও অভিযোগ দায়ের করা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘আপাতত তারা সবাই কোয়রেন্টিন সেন্টারে আছেন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাদের রাজ্যগুলির ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখানে রেখেই বাকি আইনি প্রক্রিয়া করা হবে।’

কালো তালিকাভুক্তদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো এবং ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত তাদের জানানোর জন্য বিদেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে তাদের ফেরত নেবে সংশ্লিষ্ট দেশ, সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা চালাচ্ছে।

মার্চের শুরু থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলেছে ওই তবলিগ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তার পরেও প্রায় ১০-১২ দিন ধরে নিজামউদ্দিন মসজিদে ছিলেন প্রায় ২০০০ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি। কিন্তু লকডাউন ঘোষণা এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরেও এক জায়গায় এত লোক থাকায় বিপাকে পড়েছেন তবলিগ জামাত কর্তৃপক্ষও।

এ নিয়ে ইতিমধ্যে সাতজন মওলানার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।

এদিকে ভবিষ্যতেও যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য আরও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতে তবলিগে যোগ দিতে চেয়ে করা আর কোনও ভিসার আবেদন মঞ্জুর করা হবে না বলেও জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ।

এর মধ্যেই কোয়রান্টিনে থাকা সমস্ত বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তৃতীয় নির্দেশিকা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভারতে থাকা এসব বিদেশিদের ফেরত নিতে সংশ্লিষ্ট দেশকেই বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে শুধুমাত্র যাদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নেই, তাদেরই সেই বিমানে ফেরত পাঠানো হবে। সামান্য উপসর্গ থাকলেও তাদের দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না।

ভারতের আসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশগুলোকে ওই বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করতে হবে বলেও জানা গেছে।

No comments:

Post a comment

loading...