Tuesday, 5 May 2020

শ্রমিকদের ট্রেনের ভাড়া নিয়েই যত বিতর্ক , ঝোপ বুঝে কপ মারলেন সোনিয়া

ওয়েব ডেস্ক ৫ই  মে  ২০২০:মে: পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ট্রেন ভাড়া নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। হতভাগ্য শ্রমিকদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা নিয়ে ক্ষোভ ও বিরক্ত প্রকাশ করে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী গতকাল তিনি বলেন , যে শ্রমিকেরা ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং দেশের বিকাশের রাষ্ট্রদূত, তাঁদের ট্রেন ভাড়া মেটাবে কংগ্রেস। রাজ্যে রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব ওই দায়িত্ব নেবে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, যে সরকার গুজরাটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছে, যে রেল মন্ত্রণালয় পিএম কেয়ার্স তহবিলে ১৫১ কোটি টাকা দিয়েছে, তারাই হতদরিদ্র শ্রমিকদের কাছ থেকে কেন ভাড়া চাইবে? এই সরকারই বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের বিনা ভাড়ায় বিমানে চাপিয়ে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। তা হলে সামান্য সৌজন্যটুকু কেন শ্রমিকেরা পাবে না?সোনিয়ার বিবৃতি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি সরব হয়। রেল মন্ত্রণালয়ও। বিজেপি বলে, বিশেষ ট্রেন চালানোর বেশির ভাগ খরচই দিচ্ছে রেল মন্ত্রণালয়। প্রায় ৮৫ শতাংশ। রাজ্য সরকারদের দিতে হবে মাত্র ১৫ শতাংশ। শ্রমিকদের কাছ থেকে রেল সরাসরি টাকা নিচ্ছে না। কাউকে টিকিট বিক্রিও করছে না। রেলকে বকেয়া চুকোবে রাজ্য সরকার। রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্রের মতে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ট্রেন চালানো হচ্ছে। ফিরতি ভাড়াও এর মধ্যে ধরা হয়েছে।
বিজেপি বলেছে, আমরা চাই না ভারতের গ্রামগুলো ইতালির মতো হয়ে যাক। কংগ্রেসের রাজনীতি না করাই ভালো। তারা বরং তাদের রাজ্য সরকারদের বলুক বাকি খরচ রেলকে দিয়ে দিতে।

বিশেষ এই ট্রেন চালানো হচ্ছে রাজ্য সরকারদের অনুরোধে। যে রাজ্যে শ্রমিকেরা আটকে রয়েছেন এবং যে রাজ্যে তাঁরা যাবেন, ট্রেন চলছে তাঁদের অনুরোধে। শ্রমিকদের কাছ থেকে রেল সরাসরি ভাড়া নিচ্ছে না। তা রেলকে মেটানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারদের। শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়ে। রেল মন্ত্রণালয় স্লিপার ক্লাসের ভাড়ার সঙ্গে শ্রমিক পিছু অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নিচ্ছে। বিতর্ক এ থেকেই।

সোনিয়ার অভিযোগ ও বিবৃতি প্রচারিত হওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসেছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার প্রথমে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। রাজস্থানের কোটায় আটক পড়ুয়াদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, এর ফলে লকডাউনের উদ্দেশ্যটাই বানচাল হয়ে যাবে। সেই নিতীশ কুমার আজ বলেন, বিহারে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের টিকিটের দামের সঙ্গে ৫০০ টাকাও দেওয়া হবে যাতে বাড়ি ফিরে অসুবিধায় পড়তে না হয়। মহারাষ্ট্র সরকারও জানিয়েছে তারা টিকিটের খরচ বইবে।

লকডাউন জারি থাকলেও আজ থেকে সারা দেশে নিষেধাজ্ঞা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। বন্ধের আওতায় রয়েছে ট্রেন, বিমান, মেট্রো ও অন্তঃরাজ্য বাস পরিষেবা। বন্ধ থাকছে মল, সিনেমা, থিয়েটার, সেলুন, স্পা ও জিম। সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশও নিষিদ্ধের তালিকায় থাকছে। বিয়ে বাড়িতে ৫০ জনের বেশি জড়ো হতে পারবে না। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে হাজিরা ৩৩ শতাংশের বেশি নয়। যান চলাচল অনেকটাই শিথিল।

এই সব শিথিলতার দরুন আজ রাজ্যে রাজ্যে মানুষজনের উপস্থিতি হঠাৎই বেড়ে গেছে। আজই প্রথম মদের দোকান খোলার অনুমতি মেলে। ফলে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। বহু জায়গায় দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। বিশৃঙ্খলার জন্য বিভিন্ন শহরে কোনো কোনো এলাকায় পুলিশকে বলপ্রয়োগও করতে হয়।

গতকাল রোববার সকাল থেকে সোমবার এই চব্বিশ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৪২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৭২ জন। বিভিন্ন মহলের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার কারণে সংক্রমণের হার এখন থেকে বাড়তে পারে। সে জন্য প্রশাসনিক তৎপরতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

No comments:

Post a comment

loading...