Friday, 5 June 2020

দুর্নীতির পাহাড় গড়ে উঠেছে উত্তর প্রদেশে, একই সঙ্গে ২৪ স্কুলের সাথে যুক্ত হয়ে ১ কোটি টাকা হাতালো শিক্ষিকা

ওয়েব ডেস্ক ৫ই   জুন  ২০২০:সরকারের খাতায় তিনি কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সেখানেই ক্লাস নেন। কিন্তু তার সঙ্গে তিনি যে আরও ২৪টি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে যুক্ত তা জানা ছিল না খোদ সরকারেরই। সম্প্রতি সামনে এসেছে এই ঘটনা। তারপরেই শুরু হয়েছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত।


ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। সেখানকার বুনিয়াদি শিক্ষা দফতরের অধীনে কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে যুক্ত অনামিকা শুক্লা। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের সব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি ডেটাবেস তৈরি করছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এই ডেটাবেস তৈরি করতে গিয়েই দেখা যায়, অনামিকা শুক্লা উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ২৫টি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে যুক্ত। শুধু তাই নয়, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিটি স্কুলের জন্য আলাদা করে বেতন তুলেছেন তিনি। এই সময়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেতন তুলেছেন ওই শিক্ষিকা।

জানা গিয়েছে, অমেঠী, আম্বেদকর নগর, রায়বরেলি, প্রয়াগরাজ, আলিগড় প্রভৃতি জেলায় বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে নাম রয়েছে অনামিকা শুক্লার। এই বছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকতার বেতন তিনি তুলেছেন। ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে অবশ্য ওই শিক্ষিকার হদিশ নেই। কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, স্কুল থেকে মেডিক্যাল কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। এখনও যোগ দেননি।

বুনিয়াদি শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অনামিকা মইনপুর জেলার বাসিন্দা। এই ঘটনা জানাজানির পরে দফতরের তরফে তাঁর ঠিকানায় একটি নোটিসও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। বর্তমানে অবশ্য তাঁর বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতর জানার চেষ্টা করছে প্রতিটি স্কুল থেকে বেতন তোলার জন্য একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ওই শিক্ষিকা ব্যবহার করেছেন, নাকি আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে টাকা তুলেছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের বুনিয়াদি শিক্ষা মন্ত্রী ডক্টর সতীশ দ্বিবেদি জানিয়েছেন, “শিক্ষা দফতর এই ঘটনার তদন্ত করছে। যদি ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সবকিছুতে স্বচ্ছতা রাখার জন্যই এই ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছিল। যদি এই ঘটনার সঙ্গে দফতরের কেউ যুক্ত থাকেন, তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকা নিয়োগ চলছে। দুর্নীতি করলে কেউ বাঁচতে পারবে না।”

No comments:

Post a comment

loading...