Thursday, 16 July 2020

মোদী সই করার পরেও ইরান নিজেদের রেল প্রকল্প একক ভাবে শেষ করার প্রচেষ্টায় নামল

ওয়েব ডেস্ক ১৬ই  জুলাই   ২০২০:ইরানের সঙ্গে একটি বড় রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সম্প্রতি প্রকল্পটি এককভাবে উদ্বোধন করে তেহরান। দেশটির পরিবহন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী মোহাম্মদ এসলামি এটির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটি হলো ইরানের চাবাহার সমুদ্রবন্দর থেকে আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া ইরানি শহর জাহেদান পর্যন্ত ৬২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণ। তবে এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্মকর্তারা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানা গেছে।
তেহরান বলছে, প্রকল্প শুরুতে দেরি এবং ভারত থেকে অর্থ পাওয়ার অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় নিজেদের অর্থেই এটি শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে সম্প্রতি ইরান ২৫ বছর মেয়াদি যে বিশাল দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত করেছে তার প্রভাব পড়েছে এই রেল প্রকল্পে। যার ফলে তেহরান এটি এককভাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটি এখন আগের চেয়েও বেশি চীনমুখী। তাছাড়া বেইজিংও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তৎপর।

অন্যদিকে, সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে চীনের  উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে চীনও চাইছে , আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে। যে প্রচেষ্টা ভারতের সব প্রতিবেশী দেশেই কম-বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
তাছাড়া এক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। আর সেটা হলো- ভারত ইরানের মিত্র দেশ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন চাপ সৃষ্টি করে নয়াদিল্লিকে বলেছে, তারা যেন তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ভারত ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই এর একটা প্রভাব পড়েছে রেল প্রকল্পে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প থেকে ভারতকে বাদ দেওয়ার ঘটনা তেহরান ও নয়াদিল্লির মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

অবশ্য ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা না হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, পরে নয়াদিল্লি ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবে।

জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৬ সালের মে মাসে তেহরান সফরে গেলে ইরানের চাবাহার সমুদ্রবন্দর থেকে আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা ইরানি শহর জাহেদান পর্যন্ত ৬২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণের ব্যাপারে চুক্তি হয়। এতে সই করে ভারত, ইরান ও আফগানিস্তান। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ গড়ে তোলা।

গত সপ্তাহে ইরানের পরিবহন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী মোহাম্মদ এসলামি ওই রেল প্রকল্পের একাংশে লাইন পাতার কাজের উদ্বোধন করেন। এর পর দেশটির উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের রেল কর্তৃপক্ষ এককভাবে প্রকল্পটি পরিচালনা করবে। এতে ভারতের কোনো সহায়তা নেওয়া হবে না। প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হবে বলেও জানান তিনি। ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় ৪০ কোটি ডলার সরবরাহ করবে ইরানের জাতীয় উন্নয়ন তহবিল।

No comments:

Post a comment

loading...