Thursday, 13 August 2020

বামপন্থী জমানায় যেরকম রাজ্যের দোষ ত্রুটি ঢাকা হত, মমতার জমানায় সেটা হয়না

ওয়েব ডেস্ক ১৩ই অগাস্ট ২০২০:এক নারী করোনা রোগীর সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগে একটি নার্সিংহোম ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য কমিশন। স্বাস্থ্য কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গতকাল বুধবার এই মামলা দায়ের করে। ১৯ আগস্ট মামলার শুনানি হবে।

৮ আগস্ট পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বুকে ব্যথা নিয়ে কলকাতার পার্ক সার্কাসের একটি নার্সিংহোমে এক বৃদ্ধাকে ভর্তি করান তাঁর ছেলে নাজিম খান। ৬০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম লায়লা বিবি। ভর্তির পর তাঁকে রাখা হয় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। বৃদ্ধার সোয়াব পরীক্ষা করা হলে গত সোমবার তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের করোনার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তখন ছেলে নাজিম নার্সিংহোমে ৯০ হাজার টাকা  বিল পরিশোধ করে মাকে ছাড়িয়ে নেন।

পরে বৃদ্ধাকে ভর্তি করানোর জন্য কলকাতার বাইপাসের ডিসান হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর ছেলে নাজিম। সেখানে একটি সিট বুক করে ৮০ হাজার রুপি জমা দেন। ডিসান কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩ লাখ রুপি জমা না দিলে তাঁকে ভর্তি করানো যাবে না। নাজিম ১২ ঘণ্টার সময় চান। বলেন, ওই সময়ের মধ্যে তিনি বাকি টাকা দেবেন। তাঁর ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ওই দিনের টাকা তোলার ঊর্ধ্বসীমা পার হয়ে গেছে। এ কথায় রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।রাত ৯টার দিকে নাজিম তাঁর মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আসেন ডিসান হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাকি টাকা না দেওয়া পর্যন্ত বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুলেন্সেই শুইয়ে রাখে। ইতিমধ্যে বৃদ্ধার আরেক ছেলে লতিফ খান আবুধাবি থেকে হাসপাতালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ রুপি পাঠিয়ে দেন। সেই খবর জানিয়ে দেন দাদা লতিফ খান হোয়াটসঅ্যাপে। সেই মেসেজ দেখালেও এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান ওই বৃদ্ধা।

এই অমানবিকতার কথা  সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে নড়েচড়ে বসে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন। কারণ, আগেই স্বাস্থ্য কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা  অগ্রিম নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করাতে হবে। সেই টাকা যদি রোগী জোগাড় করতে না পারে, তবে তাঁকে ১২ ঘণ্টার সময় দিতে হবে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশ অমান্য করেছে।

এই ঘটনার পর গতকাল বুধবার রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন এক নির্দেশিকায় জানিয়ে দিয়েছে, টাকা না পেলেও রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। কোনো রোগীকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। দাবিমতো টাকা না পেলে কোনো রোগীকে ফেরানো যাবে না। এমনকি টাকার জন্য মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না।এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই নার্সিংহোম ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে।এ ছাড়া নাজিমের আবেদনে রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও আলাদাভাবে আবেদনের শুনানি নেবে। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এই ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘দুটি হাসপাতালের কাছে আমি এ-সংক্রান্ত বক্তব্য পেশের আদেশ দিয়েছি। তাদের বক্তব্য শোনার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেই আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছি দুই হাসপাতালের বিরুদ্ধে।’যদিও ডিসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ওই রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তাঁর হার্টবিট, প্রেশার ও পালস ছিল না।হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন নাজিম। তিনি বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট বাবা হানিফ খানকে হারিয়েছি। ১০ আগস্ট হারালাম মাকে।’

No comments:

Post a comment

loading...