Monday, 24 August 2020

ইমরানের ক্যারিশমাও আরব দুনিয়াকে পাকিস্তানের পক্ষে ধরে রাখতে পারলনা

ওয়েব ডেস্ক ২৪ শে অগাস্ট ২০২০:ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলোর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সমর্থন পেতে ব্যর্থ হাওয়াই এখন চীনের নেতৃত্বে নতুন জোট খোঁজার চেষ্টা করছে এশিয়ার মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান। হঠাৎ করেই নতুন এই পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা পাকিস্তানের জন্য কতটা বাস্তবসম্মত হবে? এটাই জানার চেষ্টা করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মুহাম্মদ কুরেশি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫৭ মুসলিম দেশের জোট অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমালোচনা করেন।টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, মূল সংগঠকেরা বৈঠক না ডাকলে পাকিস্তানই আগ্রহী অন্য দেশগুলোকে নিয়ে এ রকম বৈঠক ডাকতে। কারণ কিছু মুসলিম দেশ কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে। যদিও তার সেই মন্তব্যে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে সৌদি আরব। কারণ ওআইসিতে বর্তমানে সৌদি আরবের বড় ভূমিকা ও প্রভাব রয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকার খবর অনুযায়ী, গত কয়েক বছর আগে সৌদি আরব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল। জ্বালানি তেল বাকি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সৌদি সরকার ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করতে বলেছে পাকিস্তানকে। একই সঙ্গে তেল দেওয়ার প্রস্তাব স্থগিত করেছে। জানা যায়, পাকিস্তান চীনের সহায়তায় এক বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এই ক্ষোভের কারণ হলো—তারা মনে করছে, তুরস্কের ইন্ধনে পাকিস্তান এ অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে আমাদের যে সংবেদনশীলতা রয়েছে সেটা উপসাগরীয় দেশগুলোকে বুঝতে হবে।


তার এই বক্তব্যে সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হওয়ার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যদিও সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কে যে ফাটল দেখা দিয়েছে—সেটা অস্বীকার করেছেন ইমরান খান। গেল সপ্তাহে সৌদি আরব সফরে যান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। কিন্তু সফরকালে তিনি সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারেননি।


এই ঘটনা পাকিস্তানের জন্য বিব্রতকর। বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের ওপর সৌদি আরবের ক্ষোভের বড় কারণ হলো—ওআইসি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির মন্তব্য এবং ইরান, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠতা।

গত বছর ভারত সরকার সংবিধানে দেওয়া কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। একসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে বিভক্ত করে পৃথক দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বিল পাশ করে ভারতের পার্লামেন্ট। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধ করেছে পাকিস্তানকে।


ইসলামাবাদ শুরু থেকেই দিলির এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বকে ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান সরকার আরব বিশ্বের বড় কোনো সহায়তা পায়নি।

No comments:

Post a comment

loading...