Monday, 3 August 2020

৭ দফার নির্দেশিকা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে

ওয়েব ডেস্ক ৩রা  অগাস্ট ২০২০: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের বিলে লাগাম টানতে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন গতকাল রোববার সাত দফা নির্দেশ জারি করেছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় লাগামহীন বিল নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। সরকারি নির্দেশ অনেকটাই উপেক্ষা করছে তারা। সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার খরচ তেমন না হলেও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচের নামে পকেট কাটা শুরু হয়েছে। এই বিল মেটাতে নিঃস্ব অনেক রোগীর পরিবার।
এ নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগ আসছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ও রাজ্য সরকারের কাছে। চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য সরকারও। রাজ্য সরকার বেসরকারি হাসপাতালের খরচের রাশ এখনো টানতে পারছে না। নির্দেশ দিলেও তা মানছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলো।করোনা সন্দেহভাজন একজন মানুষের সোয়াব টেস্ট করতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল বিল করেছে দেড় লাখ রুপি। ছয় দিন হাসপাতালের বেডে রেখে ওই রোগীর টেস্ট করা হলেও দুবারই আসে নেগেটিভ। তবু একটি মধ্যশ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল বিল করেছে দেড় লাখ রুপির ওপর। আবার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি একজন করোনা রোগীর কাছ থেকে ১০ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল করেছে। আর এই বিল মেটাতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব।

কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক একজন নারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সীতাংশু শেখর পাঁজা (৬৫) তাঁর নিজ এলাকা দমদমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন করোনা নিয়ে। তাঁর বিল আসে ২৪ লাখ টাকা। সেখান থেকে কমিয়ে শেষ পর্যন্ত করা হয় ১৬ লাখ টাকা। ওই চিকিৎসকের পরিবার শেষ পর্যন্ত বিল মিটিয়ে তাঁকে নিয়ে আসেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দমদমের এই চিকিৎসক শেষ পর্যন্ত গত শনিবার মারা যান কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই।

তাই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের বিলে লাগাম টানতে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন গতকাল সাত দফা এক নির্দেশিকা জারি করে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোভিড সুরক্ষা বাবদ পিপিইসহ যাবতীয় সামগ্রীর খরচ এক হাজার টাকার মধ্যে রাখতে হবে প্রতিদিন। সুরক্ষার নামে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৫০ রুপির বেশি নিতে পারবে না। রোগীর সঙ্গে একজন আত্মীয় থাকলে আরও ৫০ টাকা  নেওয়া যেতে পারে। চেষ্টা করতে হবে সস্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্দিষ্ট দামি ব্রান্ডের অ্যান্টিবায়োটিক নয়। বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেশি যাতায়াত খরচ নেওয়া যাবে না। করোনা নমুনা পরীক্ষার খরচ ২ হাজার ২৫০ টাকা    বেশি হতে পারবে না। জোর করে রোগীকে ভর্তি করে রেখে দেওয়া যাবে না। ছুটি দেওয়া সত্ত্বেও রোগী যেতে না চাইলে তাঁকে সেফ হোম বা স্যাটেলাইট সেন্টারে স্থানান্তর করতে হবে।

No comments:

Post a comment

loading...