Monday, 28 September 2020

নিজেদের খারাপ স্বভাবটাই এখন ভারতের ওপর আরোপ করছে চীন

ওয়েব ডেস্ক ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২০ : মস্কোতে গত ১০ সেপ্টেম্বর চীন ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে কিছু সমঝোতার পর লাদাখ সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা কমবে বলে যে আশা তৈরি হয়েছিল, তার আয়ু বেশিদিন হবে না বলে অনেকেই মনে করছেন।ওই বৈঠকের পর এখনো সীমান্তে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। দু'পক্ষের কেউ সেনা সরায়নি। বরং সমরাস্ত্র জড়ো করার মাত্রা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

মস্কোতে সমঝোতার পরেও সীমান্তে গুলি করার অনুমোদন দেওয়াসহ ভারতের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে চীনের ভেতর ক্ষোভ এবং সন্দেহ তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।চীন সরকারের মুখ থেকে এখন পর্যন্ত কিছু শোনা না গেলেও, সরকারি মুখপাত্র বা সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মিডিয়াগুলোতে ভারতের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।একটি উপ-সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল 'কপট ভারতের ব্যাপারে শক্ত হওয়ার সময় এসেছে'।‘সাংহাইয়ের ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান লিউ জং ই তার ওই বিশ্লেষণে খোলাখুলি লিখেছেন যে, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের কোনো সদিচ্ছা ভারতের নেই। 


ভারত কি প্রথম গুলি চালাবে?


সূত্রের খবর অনুসারে নিরাপত্তার প্রতি হুমকি মনে করলে এখন থেকে ভারতীয় সৈন্যরা চীনা সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে দ্বিধা করবে না। চীনকে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।


ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে চীনের  লিউ জং ই বলেছেন, ভারত প্রথম গুলি চালাতে পারে, সে সম্ভাবনা এখন আর কোনোভাবেই নাকচ করা যায় না।


চীনা এই বিশ্লেষক লেখেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি অংশ এখন কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ। সেই কট্টর অংশের কেউ কেউ এখন যুদ্ধের প্ররোচনা দিচ্ছে।


তিনি আরো লেখেন, চীনকে এখনই শক্ত হতে হবে। এখনই যদি এর প্রতিকার চীন না করে, তাহলে মাঝে-মধ্যেই সীমান্তে সংঘাত নতুন একটি বাস্তবতা হয়ে দেখা দেবে।


লিউ জং ই মনে করেন, চীনকে হটিয়ে বিশ্বে শিল্পপণ্যের প্রধান একটি সরবরাহকারী দেশ হওয়ার জন্য ভারতের ভেতর অদম্য আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে এবং সেজন্য চীনের সাথে সমস্যা সমাধানে ভারতের কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক তার উল্টো। 


চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক ইন্সটিটিউটের গবেষক কিয়াং ফেং মনে করেন, চীনের ব্যাপারে নীতি নিয়ে ভারতের মধ্যে অব্যাহত 'অস্পষ্টতা, পরস্পর-বিরোধিতার' কারণে তাদের সাথে কোনো সমঝোতায় চীন এখন আর আস্থা রাখতে পারছে না।কিন্তু ১৯৬২ শালের পর থেকে চীন কি সেই বিশ্বাস যোগ্যতা কখনো অর্জন করতে পেরেছে ? এই ব্যাপারে নির্বিকার কিয়াং ফে। 


শনিবার গ্লোবাল টাইমসে এক বিশ্লেষণে কিয়াং লেখেন, ভারতে সরকারের মধ্যেই একেকজন একেক সময় একেক কথা বলছেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের কথার সাথে সেনা দপ্তরের কথার কোনো মিল নেই। অনেক সময় তাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। সরকারের নীতির মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।


এ প্রসঙ্গে চীনা ওই গবেষক উল্লেখ করেন, ১০ সেপ্টেম্বর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি সমঝোতা করলেন, কিন্তু পরের দিন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াত বিবৃতি দিলেন যে সীমান্ত যে কোনো পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় সেনারা প্রস্তুত।


কেন্দ্র  অবশ্য সব সময় বলছে যে সীমান্ত পরিস্থিতির দায় একমাত্র চীনের। চীনই এখানে আগ্রাসীর ভূমিকায় এবং ভারত শুধু তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে।

No comments:

Post a comment

loading...