Tuesday, 8 September 2020

সিপিএমের মত কথার মারপ্যাচ দিয়ে নয় , তৎপরতা দেখিয়েই করোনা কলকাতায় নিয়ন্ত্রণ করলেন মমতা

ওয়েব ডেস্ক ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ :১৭ থেকে সাত, সেখান থেকে কলকাতা পুরসভা অঞ্চলে ব্রডবেসড কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা কমে হল মাত্র এক! ঠিক কোথায় রয়েছে কলকাতার একমাত্র ব্রডবেসড কনটেইনমেন্ট জোনটি?উত্তর কলকাতার ৪ নম্বর বরোর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ১৩ থেকে ১৭ নম্বর উমেশ দত্ত লেন, গিরিশ পার্ক অঞ্চল। আপাতত কলকাতা শহরে এখানেই রয়েছে একমাত্র কনটেইনমেন্ট জোন।লকডাউন ও করোনা পরীক্ষা বৃদ্ধিতে যে সুফল মিলছে কলকাতায় তা ব্রডবেসড কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা কমিয়ে আনাতেই স্পষ্ট। যদিও প্রশাসনের ভাবনা এখন কয়েকটি জেলাকে নিয়ে। যার ফলে রাজ্যে মোট কনটেইনমেন্ট সংখ্যাটা ২,৫৯৮ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২,৭৩৭ করা হয়েছে। এমনই তথ্য দিচ্ছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘এগিয়ে বাংলা’।

করোনার বিরুদ্ধে কলকাতার এই জায়গায় পৌঁছনোর যুদ্ধটা শুরু হয় মোটামুটি এপ্রিল মাস থেকে। মার্চ মাসে রাজ্যে প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল কলকাতা থেকেই। তারপরে লকডাউন থেকে আনলক-পর্বে রাজ্য রাজধানীতে করোনা সংক্রামিত এলাকা ছিল বিশাল। যেমন, গত ১১ মে কলকাতায় কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা ছিল ৩৩৮ টি। দু’মাস পরে জুলাই মাসে শহরের সংক্রামিত এলাকার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৯টি। তারপর থেকেই শহরে কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যাটা ওঠানামা করেছে। গত মাস খানেক ধরে কনটেইনমেন্ট জোন আরও কমতে শুরু করেছিল। গত ২৩ আগস্ট সেই সংখ্যাটা ছিল ১৭। তার ঠিক পাঁচ দিন পর ২৮ আগস্ট সেটা নেমে আসে সাতে। এবার রাজ্য রাজধানীতে ব্রডবেসড কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা হল একটি।


সাফল্যের জন্য রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলছেন এটা কলকাতা পুরসভার পুরো টিমের সাফল্য। প্রথমে বস্তিতে মাইক্রো প্ল্যানিং চলে। তারপর বহুতল আবাসনেও তা করা হয়েছে। পুরকর্মীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য সমীক্ষার কাজ চালাচ্ছেন। টেস্টিং বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টারই সাফল্য এটা।ফিরহাদ হাকিম স্বীকার করে নিয়েছেন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি সংক্রমণ। প্রশাসন ও আমজনতার সার্বিক সহযোগিতায় দৃষ্টান্তমূলকভাবে তা কমিয়ে ফেলা যাবে বলে আশাবাদী তিনি।


কিন্তু কলকাতায় সংক্রমণের গতি কি ক্রমেই কমছে? স্বাস্থ্য দফতরের শেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে রবিবার কলকাতা শহরে নতুন করে ৫৪১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। শনিবার কলকাতায় সংক্রমিত হয়েছিলেন ৫৪৮ জন। রবিবার রাজ্যে নতুন সংক্রমিতের সংখ্যা ৩,০৮৭, মৃত্যু ৫২ জনের। উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বাধিক ৫৯০ জন গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন, মৃত্যু ১০ জনের। তারপরেই কলকাতা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৪৬,৫০৫ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাংলায় সুস্থতার হার ৮৫.১৯%।


করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বারাসতের নবপল্লি ছোট বাজার, কাজিপাড়া বাজার ও অশ্বিনীপল্লি বাজারকে নতুন কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত এই তিনটি বাজার বন্ধ। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি কনটেইনমেন্ট জোন এখনও নদিয়া জেলাতেই, ৪৮৪ টি। একটিও কনটেইনমেন্ট জোন নেই পশ্চিম বর্ধমান। 

No comments:

Post a comment

loading...