Friday, 18 September 2020

শুধু সিএএ বিরোধীদেরই দিল্লি দাঙ্গায় "টার্গেট" করেছে মোদী সরকার , পড়ুন

ওয়েব ডেস্ক ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ : দিল্লির ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনায় ১৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এদের সবাই দেশের  বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ১৭ হাজার পৃষ্ঠার ওই বিশাল অভিযোগপত্রে সিএএ’র পক্ষে প্রচার চালানো একজনকেও আসামি করা হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী বেআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধ আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দেশের  কার্যকর হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনটিকে (সিএএ) বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে দেশ জুড়ে যখন তীব্র বিক্ষোভ চলছিল, ঠিক সেই সময় রাজধানীতে ওই আইনের সমর্থনে মিছিল বের করে বিজেপি। নেতৃত্বে ছিলেন কপিল মিশ্র। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে কপিল দাবি করেন এটি ‘শান্তি মিছিল।’  ওই মিছিলেই নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাও। পার্লামেন্টে জিততে পারলে রাস্তায় জিততে পারব না?’ এরপরেই দিল্লিতে শুরু হয়  তাণ্ডব। টানা কয়েক দিনের তাণ্ডবে বহু  নাগরিক নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়। ধ্বংস হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

তবে ওই দাঙ্গার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দায়বদ্ধ দিল্লি পুলিশ যে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে তাতে আসামি করা হয়েছেন কেবল ওই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আম আদমি পার্টির বহিস্কৃত কাউন্সিলর তাহির হুসেন এবং বেশ কয়েক জন স্টুডেন্ট অ্যাকটিভিস্ট। তবে পুলিশ বলছে, তাদের তদন্ত এখনও চলছে আর এখন পর্যন্ত যাদের নাম আসেনি তাদেরকে অভিযুক্ত করে সম্পুরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।  

আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি দাঙ্গা এলাকা সিলমপুর ও জাফরাবাদে সহিংসতার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। পুলিশ বলছে, ‘এসব ষড়যন্ত্রকারীরা মাঠ পর্যায়ের দাঙ্গাকারীদের (ফুট সোলজারস) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছে এবং তার ফলেই ফেব্রুয়ারিতে উত্তরপূর্ব দিল্লিতে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়।’

প্রায় ২০ কিলোমিটার হেঁটে এসেও শিক্ষার্থীরা নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা দাঙ্গার পরিকল্পনা করে আর চক্রের মধ্যবর্তী নেতারা ফুট সোলজারসদের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।’ আদালতে পুলিশ দাবি করেছে, ‘শুরু থেকেই এটা কোনও গণতান্ত্রিক বিক্ষোভ ছিলো না। বিক্ষোভের শুরু থেকেই সহিংসতার উস্কানি দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির দাঙ্গার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অনেকেই মনে করেন দাঙ্গার সময় সিএএ সমর্থকদের সমর্থন দিয়ে মুসলিম নিধনে সহায়তা দিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কেবল সিএএ বিরোধীদের গ্রেফতার করারও অভিযোগ রয়েছে।

No comments:

Post a comment

loading...