Monday, 14 September 2020

মমতার ক্যারিশমার সামনে বিজেপি ভেবেই পাচ্ছেনা কাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করে তুলবে

ওয়েব ডেস্ক ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২০ :পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দরজায় ক’ড়া নাড়ছে। আর তো মাত্র ৮ মাস বাকি। এবার ল’ড়া’ই মমতা ব্যানার্জী বনাম বিজেপি। এ নিয়ে আর কোনও বিত’র্ক নেই। সিপিএম এবং রাজ্য কংগ্রেস হাতে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের সিপিএম নেতারাও স্বী’কার করেছেন যে একদা যে ল’ড়া’ই ছিল কংগ্রেস বনাম সিপিএম।


তারপর ৭৭ সালে সিপিএম ক্ষ’মতায় আসার পর ল’ড়া’ই হল সিপিএম বনাম কংগ্রেস, তারপর সিপিএম বনাম মমতা। আজ সেই সিপিএম, সেই কংগ্রেস প্রধান নির্ধারক শ’ক্তি নয়। প্রধান বিরো’ধী দল হয়ে উঠল বিজেপি। সম’স্যা অন্যত্র। সম’স্যা হল মমতার বি’রু’দ্ধে রাজ্য বিজেপির মুখটি কে? একজন নয়, বিজেপিতে ছায়া মুখ্যমন্ত্রীর মিছিল। অর্থনীতিতে একটা কথা আছে প্রাচুর্যের সং’ক’ট, রাজ্যে বিজেপিতেও হয়েছে তাই।রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, তিনি খুবই স’ক্রি’য়। এমএলএ হয়েছিলেন, এখনতো এমপিও। রাজ্যের অনেক নেতা ভেবেছিলেন তিনি যখন সংসদ সদস্য হয়ে গেছেন তবে এবার হয়তো তাকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরানো হবে। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল বেরোনোর পরও তো এক বছর হতে চলল, দিলীপ ঘোষ বহাল তবিয়তে রাজ্য সভাপতি পদে টিকে আছেন। দিলীপবাবু অভিজাত নন। কিন্তু তিনি মাটির কাছাকাছি।

জেলায় জেলায় গিয়ে তৃণমূলের বি’রু’দ্ধে তৈরি হওয়া অস’ন্তো’ষকে মূলধন করে সংগঠন তৈরি করতে সচেষ্ট। কিন্তু তার বিত’র্কিত নানা মন্তব্য নিয়ে শহুরে অভিজাত ও বাঙালির মধ্যে তুমুল নে’তিবা’চক প্রতি’ক্রি’য়া। গরুর মূত্র থেকে রামলালার পুজো নিয়ে তার হিন্দু’ত্ববা’দী নানা মন্তব্যকে সাম’ন্ততা’ন্ত্রিক সা’ম্প্রদা’য়িক কু’সং’স্কার বলে বি’দ্বৎস’মাজের এক বড় অংশ বি’র’ক্ত। তাতে দিলীপবাবু কিন্তু কোনভাবেই উদ্য’ম হারাননি। বরং তিনি মনে করেন, এভাবে বি’ত’র্কে থাকাটাই জরুরী।

তবে দিলীপবাবু এতদিন যেভাবে এগোচ্ছিলেন তাতে হঠাৎই একটা আ’চ’মকা ধা’ক্কা সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎই আসরে অবতীর্ণ হয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি একদা রাজ্য সভাপতি হয়েছিলেন এ রাজ্যে। রাজ্যপাল হয়ে চলে গেলেও তিনি একদিনের জন্য দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে সংবিধানের ঘে’রাটো’পে ব’ন্দী হতে পারেননি। তথাগত বাবু ত্রিপুরার রাজ্যপাল হয়ে রাজভবনে যখন যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মানিক সরকার। পরবর্তীকালে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হন বিপ্লব কুমার দেব।বিজেপি এরাজ্যে ক্ষ’মতাসীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষ’মতায় আসার স্বপ্ন আরও গ’তিশী’ল হয়ে ওঠে। তথাগতবাবু ত্রিপুরার রাজভবনের ব’ন্দিত্ব মেনে নিতে পারতেন না। এই রাজভবন ছিল রাজপ্রাসাদেরই অংশ। রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে যে চেয়ার ব্যবহার করেছেন সে চেয়ারটিও নাকি এখানে আছে। তবুও এসব ইতিহাস তথাগত বাবুকে যতটা আ’ক’র্ষণ করে তার চেয়ে তার মন বরাবর পড়েছিল পশ্চিমবাংলায়। তিনি নিয়মিত উ’গ্র হিন্দু’ত্ববা’দী টুইট করা শুরু করেন।

একবার তো তথাগত বাবুর টুইটার জন্য রাজ্য সভার অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়। তখন অরুণ জেটলি ছিলেন রাজ্যসভার দলনেতা। তাকে রী’তিমত হি’মশি’ম খেতে হয়। তথাগতবাবু দিল্লিতে এলেও অমিত শাহকে একা’ধিকবার বলেছেন, আমি পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে স’ক্রি’য় রাজনীতি করতে চাই। তথাগত বাবুকে ত্রিপুরা থেকে মেঘালয় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্যপালের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই তিনি চলে গেছেন কলকাতায়।

কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য থেকে তৃণমূলকে স’রানোর জন্য এখন তিনি পুরোদমে আবার স’ক্রি’য় রাজনীতি করবেন। জেলায় জেলায় তার সফরও শুরু হবে। শুধু তাই নয়, তথাগত বাবু জানিয়ে দিয়েছেন তিনি দিল্লির অনুমতি নিয়েই আসরে নেমেছেন। অর্জুন সিং থেকে মতিলাল ভোরা, বাংলার দৃ’ষ্টা’ন্ত সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। এরা যদি রাজ্যপাল হওয়ার পর আবার রাজনীতিতে আসতে পারেন তবে তথাগত বাবুইবা কি দো’ষ করলেন?

অতএব এই মুহূর্তে মূল ল’ড়া’ই হল দিলীপ ঘোষ বানাম তথাগত রায়। তবে শুধু এই দুইজনই তো নয়! কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র ফ্যান ক্লাব খুব শ’ক্তিশা’লী। বাবুল একজন শ’ক্তিশালী গায়ক। বলিউডের যেমন ঘ’নি’ষ্ঠ, তেমন ঘ’নি’ষ্ঠ বাবা রামদেবের। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ স্নেহভাজন। বাবুল সোশ্যাল মিডিয়াতেও স’ক্রি’য়। তবে বাবুল নিজে দিলীপবাবুর কাজকর্মের স্টাইলে যে খুশি নন, তা জানেন না এমন সংশ্লিষ্ট মানুষ খুব কমই আছে।

তবে বাবুল যদি হতে পারেন প্রার্থী, তবে টলিউড অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় কেন নয়? লকেট সিনেমা জগৎকে কার্যত ব’র্জ’ন করে ২৪/৭ রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তাকে মহিলা সংগঠনের নেত্রীর পদ থেকে সরানো হয়েছে, কিন্তু তিনি সংসদ সদস্যা। প্রধানমন্ত্রী তো নিজের বাসভবনে সাংসদের প্রাতরাশঃ বৈঠকে সকলের সামনেই লকেটের কাজের প্রশংসা করেন। মহিলা সংগঠনটি হা’রানোর পরও তার কাজের উৎসাহ একচুলও কমেনি। এছাড়া জিষ্ণু বোসের মত মোহন ভাগবতের ঘনিষ্ঠ খুব বেশি নিজের ঢাক নিজে না পে’টানো ব্যক্তিত্ত্ব, শিক্ষিত বাঙালি। তার নাম নিয়েও সংঘ পরিবারে আলোচনা আছে।

অবশ্য এ সমস্ত নাম দূরে সরিয়ে রেখে শেষ পর্যন্ত বিজেপি সৌরভ গাঙ্গুলীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করতে প্রস্তুত? পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় চায়ের দোকান গুলি এখন যেন এক একটা পার্লামেন্ট। করোনা বি’প’র্যয়ের মধ্যেও আলোচনা চলছে। আরে বাবা বিজেপি চাইলেই তো হলোনা! দাদা কি রাজী? দাদাকে তো রাজি হতে হবে। বিসিসিআই থেকে দাদা আইসিসিতে যাবেন। খামোকা রাজনীতিতে আসবে কেন?

আবার পা’ল্টা বক্তব্য, বিজেপি এই ধ’রনের সেলিব্রিটি কোন ব্যক্তিত্ব যাকে বলা হয় দলে ল্যাটারাল এন্ট্রি, তাকে কখনো মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী করেছে। সাধারণ এমন কাউকে করা হয় যার সঙ্গে সংঘ পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক প’টভূ’মি বা ব্যা’কগ্রা’উন্ড থাকে। ভুলে গেলে চলবে না, যোগী আদিত্যনাথও কিন্তু বিধানসভায় যাবার আগে লোকসভার প্রার্থী ছিলেন দীর্ঘদিন। দিল্লির খবর, কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী কে হবে তা নিয়ে এই মোরগ ল’ড়া’ই দেখে মোদী এবং অমিত শাহ যুগপৎ বি’র’ক্ত।এমনকি বিজেপি দলের সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা, যার স্ত্রী শুধু বাঙালি এমন নন, তার শাশুড়ি ও স্ত্রী দীর্ঘদিন ধ’রে রায়পুরে বিজেপি তথা সংঘের রাজনীতি করেছেন। এই বাঙালি পরিবার বাংলাকে জানে অনেকটাই। কেউ কেউ আবার বলছেন স্মৃতি ইরানীকেও কলকাতায় নিয়ে আসা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত তিনি তো বাগচী-দুহিতা। মা বাঙালি শুধু নয়, মেয়ে যেভাবে বাংলা বলে, সংস্কৃতির দিক থেকেও স্মৃতি অনেক বাঙালির চেয়েও বাঙালি।এই গো’লযো’গ দেখে কৈলাস বিজয়বর্গীয় ঘোষণায করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক হবে জেতার পর। পরিষদীয় দল নেতা নির্বাচন করবে। এখানে একটাই কথা বলার, ১৯৫৭ সালে যখন উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে জনসংঘ অংশ নেয়, তখনও জিততে পারবে না জেনেও অটল বিহারি বাজপেয়ি কে মুখ্যমন্ত্রীর ছায়া প্রার্থী করা হয়। প্রথম থেকে এটাই ছিল জনসংঘের সংস্কৃতি। ভোটের আগে সব সময়ই দলে নেতা নির্বাচিত হত। পরে অবশ্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে দল এ নীতি থেকে সরে আসে।

যেখানে হয় সেখানে হয়, যেখানে হয় না সেখানে হয় না। অবশ্য এই পরি’স্থিতিতে এত গো’লযো’গেও একটা ইতিবাচক ব্যাখ্যা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা বলছেন, এবার বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয় লাভের সম্ভাবনা যে আছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল দলীয় নেতাদের এভাবে প্রায় সকলের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জী যে এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী সেকথা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে। মমতাকে কোনোভাবেই তাই মোদি–শাহ আ’ন্ডারএ’স্টিমে’ট করেন না। ক্ষ’মতায় টিকে থাকার আর্ট বা র’ণকৌ’শল যে মমতা জানেন না, তা নয়। কিন্তু জেলায় জেলায় ১০ বছরে তৃণমূল বিরো’ধী অস’ন্তো’ষ যে বেড়েছে তাতে বিজেপি নি’শ্চি’ত। এর মধ্যে ধর্মীয় মে’রুক’রণ হিন্দুত্বকে লোকসভা ভোটের স্টাইলে আবার পু’নরু’জ্জী’বিত করা, এইসবই বিজেপির কৌ’শল।

জেলায় জেলায় এক শ্রেণীর লু’ম্পে”ন এলে তাবিয়াত সিপিএম থেকে শা’সক তৃণমূলে আসে, অর্থনৈতিক কারণে জেলায় জেলায় নানা গো’ষ্ঠী তৈরি হওয়ায় এই লু’ম্পে’ন বা’হি’নী অনেকে বিজেপিতে আসতে শুরু করেছে বলে দিলিপ ঘোষরা মনে করেন। এ অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী কে হবে তা নিয়ে এহেন ল’ড়া’ই দেখে তাই বি’র’ক্ত দিল্লি। আপাতত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, ভোট হোক আর কেউ নন মোদীর নামেই। হোক না বিধানসভা ভোট, তবু পোস্টারে ছবি থাকবে এ’কমেবা’দ্বিতী’য়ম নরেন্দ্র মোদিরই। অতএব, ল’ড়া’ই মমতা বনাম মোদি? কিন্তু ভোটের পর? মোদি তো মুখ্যমন্ত্রী হবেন না!

No comments:

Post a comment

loading...