Saturday, 5 September 2020

বকলমে প্রণবই দেশটাকে চালাত,পড়ুন

ওয়েব ডেস্ক ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২০ :ইন্দিরা, সঞ্জয়, রাজীব, সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী- দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে গান্ধী পরিবারের এই পাঁচ সদস্যের সঙ্গেই বিশেষ সখ্য ছিল সদ্য প্রয়াত ড. প্রণব মুখার্জির।ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি। নিজ নিজ সময়ে এই পাঁচ শিরোমণিরই শক্ত খুঁটি ছিলেন তিনি।দুঃসময়ের একমাত্র বাতিঘর। আবার এই পাঁচ নেতার সহচার্যেই পূর্ণতা পেয়েছে প্রণবের রাজনৈতিক অভিযাত্রা। তার আরেক নাম ‘ইন্দিরার সেনাপতি’। দেশের  তৎকালীন রাজনীতিতে ইন্দিরা গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার সেতুবন্ধও ছিলেন তিনি।

ইন্দিরার আমলেই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দেন। আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোদি সরকারের আমলে দায়িত্ব শেষ করেন। এর মাঝে ৪৪টি বছর প্রণব প্রতিভার বহু দিক প্রত্যক্ষ করেছে ভারত। টাইমস অব ইন্ডিয়া।ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে শুরু রাজনীতিতে প্রণবের উত্থান অনেকটা ধূমকেতুর মতো। ১৯৬৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর উপ-নির্বাচনে তার রণনীতিতে জয়লাভ করে নির্দল প্রার্থী।এতেই ইন্দিরা গান্ধীর নজরে পড়েন প্রণব এবং সেবছরই রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর আরও চারবার।সংসদীয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েই ইন্দিরার বিশ্বস্ত সহযোগীতে পরিণত হন প্রণব। যার ফলে ১৯৭৩ সালে ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রী হলে তার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়ে যান তিনি। ১৯৭৭ পর্যন্ত আরও চার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি অবস্থার সময়ে ইন্দিরা সরকারের অংশ ছিলেন প্রণব।১৯৭৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে গেলেও ইন্দিরার পাশেই দাঁড়ান। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় ফিরলে বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে ১৯৮২ সালে তাকে অর্থমন্ত্রী করা হয়। একই সঙ্গে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন তিনি।জীবনের পড়ন্তবেলায় এসেও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে তাকে ‘বিশ শতকের বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অন্যতম ব্যক্তিত্ব’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

সঞ্জয় গান্ধীর সঙ্গে বন্ধন

ইন্দিরা সরকারের মন্ত্রিসভায় ইন্দিরার ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন প্রণব। জরুরি অবস্থা জারির পর কংগ্রেসের খারাপ দিনগুলোতেও একসঙ্গে কাজ করেন তারা। ২০১৬ সালে প্রকাশিত নিজের স্মৃতিকথার দ্বিতীয় অংশে সঞ্জয়ের কথা ইতিবাচকভাবেই উল্লেখ করেছেন প্রণব।তিনি লিখেছেন, ‘সঞ্জয়ের ইতিবাচক অনেক গুণ ছিল। তার আইডিয়াগুলো খুবই ভালো আর সব সময়ই সেগুলো হতো ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে।’


রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মতানৈক্য


ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পরে কংগ্রেসে প্রণবের দুঃসময় শুরু হয়। ১৯৮৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন ইন্দিরাপুত্র রাজীব গান্ধী। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম দিকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন প্রণব। এতে ‘বেশ কষ্ট’ পান তিনি। সে কথা নিজের স্মৃতিকথাতেও লিখেছেন।


বহিষ্কৃত হয়ে আলাদা দল গড়ে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন প্রণব। চার বছর তাকে কংগ্রেসের বাইরে থাকতে হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে কংগ্রেস প্রণবকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।


দলে ফিরলেও আগের সেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে তিনি তখন অনেক দূরে। পরবর্তী সময় রাজীবের সঙ্গে মতানৈক্যের বেশ কিছু কারণ নিজের স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেন প্রণব। তিনি জানান, ইন্দিরার হত্যার পর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চাচ্ছেন প্রণব।


প্রণবের স্মৃতিকথা মতে, ‘আর এই গুঞ্জনই রাজীবের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছিল।’


সোনিয়া ও রাহুলের ঘনিষ্ঠ জন


১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল কংগ্রেস। এ সময় কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই ছিলেন প্রণব। ২০০৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেসের ইউপিএ জোট। প্রধানমন্ত্রী হন মনমোহন সিং।


এই মন্ত্রিসভাতেও প্রণব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। প্রথমে হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পরে অর্থমন্ত্রী। এ সময় অনেক বিষয়ে প্রণবনির্ভর হয়ে ওঠেন সোনিয়া ও সোনিয়াপুত্র রাহুল গান্ধী। অনেকটা তার ওপর নির্ভর করেই জোট সরকার পরিচালনা করতেন সোনিয়া।


আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকের ভূমিকাও পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনমোহনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর অন্যতম ছিল ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি। কিন্তু এই চুক্তির নেপথ্যের নায়ক ছিলেন প্রণবই।

No comments:

Post a comment

loading...