Thursday, 1 October 2020

'আমাকে বাঁচাও, আমি মরতে চাই না।' এটাই ছিল উত্তরপ্রদেশের দলিত নারীর শেষ উক্তি, পড়ুন

ওয়েব ডেস্ক ১লা অক্টোবর ২০২০ : সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজনদের কাছে তরুণীর অনুরোধ ছিল, 'আমাকে বাঁচাও, আমি মরতে চাই না।'২২ বছর বয়সী দলিত তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই মৃত্যু ঘটে। গতকাল বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে  লখনৌ থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে বলরামপুরে। হাথরস গণধর্ষণ কাণ্ডে যখন সরগরম সারা দেশ , তার মধ্যেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের জেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশে।

দলিত ওই তরুণী বেসরকারি একটি সংস্থায় কাজ করেন। নির্যাতিতার মা জানান, সকালে কাজে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল মেয়েটি। তারপর থেকে মোবাইলেও পাওয়া যায়নি তাকে। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি ফিরছে না দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হন তারা। কাজে যাওয়ার পথে দলিত তরুণীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার মা। এর পর রিকশায় করে মেয়েকে বাড়ি ফিরতে দেখেন তারা। ওই সময় তরুণীর হাঁটার মতো ক্ষমতা ছিল না। তার মা বলেন, আমার মেয়ে কাঁদছিল আর বলছিল, ‘আমাকে বাঁচাও, আমি মরতে চাই না’।এরপর তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় লখনৌ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসকরা। যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।


ঘটনার ব্যাপারে বলরামপুরের পুলিশ সুপার রঞ্জন ভর্মা বলেছেন, গিয়স্রি থানায় ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তরুণীর পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন মঙ্গলবার মধ্যরাত অবধি বাড়ি ফেরেনি মেয়ে। তাকে ফোনেও পাচ্ছিলেন না। পরে তিনি গভীর রাতে রিকশায় করে বাড়ি ফেরেন। তখন তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বুধবার স্থানান্তরিত করার সময় পথেই মৃত্যু হয়।


এ ঘটনার জেরে দু’জন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ধর্ষণের পর নির্যাতিতাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে তারা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে রিকশায় তুলে দিয়ে নির্যাতিতাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।


অভিযুক্ত দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের নাম শাহিদ ও সাহিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।


ঘটনার কথা সামনে আসতেই যোগি প্রশাসনকে এক হাত নিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। হাথরসের ঘটনা নিয়েও বিরোধীরা তোপের মুখে পড়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।


No comments:

Post a comment

loading...