Tuesday, 6 October 2020

বিহারে বেশ অনেকটাই পিছিয়ে বিজেপি

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ :বিহার রাজ্যে বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। বিহারে আগামী ২৮ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর এবং ৭ নভেম্বর মোট তিন দফায় বিধানসভা নির্বাচন হবে। ভোট গণনা হবে আগামী ১০ নভেম্বর। মূলত এবার বিহারে নীতিশ-বিজেপি জোটকে লড়াই করতে হবে কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোটের বিরুদ্ধে। ফলে মহাজোটের বিরুদ্ধে লড়াইকে মোটেই হাল্কা করে নিতে পারবে না বিজেপি।

আসন্ন নির্বাচনের আগে  উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ঘটনা রীতিমতো বিহারের দলিত সম্প্রদায়ের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দলিত অধ্যুষিত বিহারের অধিকাংশ জায়গায় হাথরসের ঘটনায় ক্ষোভের পারদ চড়ছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাল্টাতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ। উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে।

দলিত সম্প্রদায়ের মেয়ের উপর যে ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিহারের দিলিত অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে। ফলে বিজেপি জোটের কাছে এই ঘটনা হয়ে উঠতে পারে অশনি সংকেত। উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি পরিচালিত যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ফলে গোটা ঘটনার দায় বিজেপির কাঁধে বর্তে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষ করে হাথরসে নির্যাতিতার মৃত্যুর পর যেভাবে পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে এবং যেভাবে ন্যাক্কারজনকভাবে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের প্রতিনিধিদের আটকে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের পারদ বাড়ছে।

তার উপর সংবাদমাধ্যমকে যেভাবে বাধা দেয়া হয়েছে তার লাইভ ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যে ঘটনায় নিন্দার ঝড় শুধু দেশের মাটিতেই নয়। সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে বিদেশেও ওই ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের যে ব্যবহার তার নিন্দায় সরব হয়েছেন বহু বিদেশীও।

যার ফলে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উপর যেমন চাপ বেড়েছে, তেমনি ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বিজেপিরও। আসন বাংলা এবং বিহারের মাটিতে যেখানে বিজেপি শিবির একটা ভালো রাজনৈতিক অবস্থানে বিরাজ করছিলো সেখানে আচমকা ঘটে যাওয়া হাথরসের ঘটনা অনেকটাই ধাক্কা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

বিরোধী পক্ষ ইতিমধ্যেই হাথরসের ঘটনাকে সামনে তুলে ধরে বিজেপির বাপ বাপান্ত করতে ছাড়ছেন না। হাথরসের ওই ঘটনায় খোদ বিজেপি সঙ্গী শিবসেনা উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে নিশানা করে বলেছে, উত্তরপ্রদেশে রামরাজ্য নয়, জঙ্গলরাজ চলছে। অথচ এই উত্তরপ্রদেশে আজ থেকে বছর চারেক আগে রাষ্ট্রীয় স্ব্যং সেবক সংঘের ইচ্ছাতেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়েছিলো যোগী আদিত্যনাথকে। হিন্দুত্ববাদের পোষ্টারবয় হিসাবে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতির আঙিনায় উঠে আসছিলেন। উত্তরপ্রদেশের মতো বৃহত্তর রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগীর সাফল্যর উপর নির্ভর করে আগামী দিনে  প্রধানমন্ত্রীর নামের তালিকাতেও ঢুকে পড়তে শুরু করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেখানে দাঁড়িয়ে হাথরসের ঘটনা এক ধাক্কায় যোগীর চার বছরের সাফল্যকে অনেকটাই পিছিয়ে দিলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

No comments:

Post a comment

loading...