Saturday, 3 October 2020

এবার যোগীর সমালোচনায় মুখর খোদ বিজেপি নেত্রী উমা ভারতীই

ওয়েব ডেস্ক ৩রা  অক্টোবর ২০২০ : হাথরাসের  ঘটনায় বিরোধী দলের নিশানায় বরাবরই আছেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ  । এ বার খোদ দলের নেত্রী উমা ভারতীর  তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন তিনি। হাথরসের নির্যাতিতের পরিবারকে কার্যত চক্রব্যূহে বন্দি রেখেছে পুলিশ-প্রশাসন। সংবাদমাধ্যম বা কোনও দল-সংগঠনের কাউকে ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। কেড়ে নেওয়া হয়েছে ফোন। এমন অভিযাগোর নিন্দা করে যোগী সরকারেরই সমালোচনা ও নিন্দা করলেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। 


তিনি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন যে পদক্ষেপ করছে তাতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তিই খারাপ হচ্ছে। দলিত তরুণীর বাড়ির চারপাশ থেকে পুলিশ প্রহরা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত হয়ে উত্তরাখণ্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি উমা ভারতী। সেখান থেকেই শনিবার সকালে ৯টি টুইট করে বক্তব্য জানান তিনি। যোগী আদিত্যনাথের কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন, যাতে সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিরোধী দল সবাইকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। যেভাবে তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, সেই কাজেরও নিন্দা করেছেন তিনি।

হিন্দিতে টুইট করে উমা ভারতী বলেন, “একজন দলিত পরিবারের মেয়ে ছিল ও। পুলিশ ওর দেহ তাড়াতাড়ি করে পুড়িয়ে দিল আর এখন ওর পরিবার ও গ্রামকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম কিছু বলব না, কারণ আপনি (পড়ুন যোগী আদিত্যনাথ) নিশ্চয় এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কিন্তু যেভাবে পুলিশ নির্যাতিতার পরিবার ও গোটা গ্রামকে ঘিরে রেখেছে তাতে এটাই মনে হচ্ছে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগই সত্যি।”

এখানেই থামেননি বিজেপি নেত্রী। তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না শুধুমাত্র স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত করছে বলে কোনও পরিবার কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবে না, এমন কোনও নিয়ম আছে কিনা। এই কাজ করে সিটের তদন্তের উপরেই সন্দেহ তোলা হচ্ছে। আমরা সম্প্রতি রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছি। আমরা দাবি করছি দেশে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এই আচরণে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তিই খারাপ হচ্ছে।”

যোগী আদিত্যনাথকে উমা ভারতী আরও লেখেন বলেন, “আপনার ভাবমূর্তি খুবই পরিষ্কার। তাই আমি চাইব সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি আপনি দেবেন। আমার করোনাভাইরাস না হলে আমিও ওই পরিবারের সঙ্গে বসে থাকতাম। আমি ছাড়া পাওয়ার পরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। আমি আপনার বড় দিদির মতো। আমার আবেদন মেনে নেওয়ার অনুরোধ করছি আপনাকে।”

হাথরাসে যাওয়ার পথে গত কাল প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে আটকে দিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকেও ঢুলতে দেওয়া হয়নি সেখানে। এই পরিস্থিতিতে দলের বড় নেত্রীর এমন সমালোচনার মুখে যোগী কী পদক্ষেপ করেন সেটাই দেখার।

এ দিকে, হাথরতের রাস্তা আজ ফের বড় গণ্ডোগোলের সম্ভাবনা। আজ শনিবার দুপুরে ফের হাথরসে যাচ্ছেন রাহুল। রাহুলের সঙ্গে এদিন ফের প্রিয়ঙ্কাও যেতে পারেন। কিন্তু পুলিশ জানায়, তারা উত্তরপ্রদেশে রাহুলদের কনভয় ঢুকলেই আটকে দেবে পুলিশ। 

আগেরবার পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন রাহুল। তিনি বলেন, “পুলিশ আমায় গলা ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করি, কেন আমাদের আটকাচ্ছেন? কেন যেতে দিচ্ছেন না? পুলিশ কোনও জবাব দেয়নি।”

পুলিশের উদ্দেশে রাহুলকে বলতে শোনা যায়, এ দেশের রাস্তা কি শুধু নরেন্দ্র মোদীর হাঁটার জন্য? সাধারণ মানুষ কি রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও পারবে না? নিহত তরুণীর বাড়িতে যাওয়ার পথে সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধি দলকেও আটকে দেয় পুলিশ। 

কিন্তু আজ হাথরস যে কোনও মূল্যে পৌঁছতে চান রাহুল। এদিন সকালে টুইট করে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, “পৃথিবীর কোনও শক্তি নেই আমায় রুখবে।”


No comments:

Post a comment

loading...