Saturday, 3 October 2020

চাপের মুখে নতিস্বীকার যোগী আদিত্যনাথের ,দূর্গা পুজোর সবুজ সংকেত দিলেন

ওয়েব ডেস্ক ৩রা  অক্টোবর ২০২০ :রামের দুর্গা উপাসনা, নিজের চোখ উপড়ে দেওয়ার প্রয়াস আর অকাল বোধনের হাত ধরেই শারদীয় দুর্গাপুজোর শুরু। এ দিকে রাম জন্মভূমির রাজ্যে রামলীলার অনুমতি থাকলেও দুর্গাপুজোয় বাধ সাধছিলেন যোগী! এ কেমন কথা! 

শেষ পর্যন্ত রামও থাকলেন, দুর্গাও। 

যোগী আদিত্যনাথের সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছিল, এ বছর উত্তরপ্রদেশে রাস্তায় বা পার্কে প্যান্ডেল বেঁধে দুর্গাপুজো  করা চলবে না। কোনও মেলা, অনুষ্ঠান বা বিসর্জনের শোভাযাত্রাও চলবে না। শুধুমাত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয় দেওয়া হয়েছিল অনুমতি।

অথচ রামলীলা  বন্ধ করা হয়নি। বলা হয় তা রাজ্যের পরম্পরা। শুধু বলা হয়েছিল, কোভিড বিধি মানতে হবে এবং ১০০ জনের বেশি উপস্থিত থাকা চলবে না।

এমন ঘোষণায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে ঘরে ও বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ে যোগী প্রশাসন। বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল তো বটেই, দলের অন্দরেই চাপ তৈরি হয়েছিল। কারণ এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারত আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে। তাই বিজেপির সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান।

তা ছাড়া, রাজ্যের সাতটি আসনের উপনির্বাচনের প্রচারের জন্যেও প্রশাসনের এই ছাড় দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কারণ দুর্গাপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি রেখে প্রচারের ছাড় দিলে ফের প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো সরকারকে।বিতর্কের মুখে অবশেষে পিছু হঠল যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাস্তায় বা পার্কে প্যান্ডেল বানিয়ে দুর্গাপুজো করার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না। তবে পুরোটাই করতে হবে কোভিড নির্দেশিকা মেনে।

উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি অবনীশ কুমার অবস্থি জানান, দুর্গাপুজো ও বিসর্জনে কোনও বাধা থাকছে না। কিন্তু তা কী ভাবে হবে, কত লোক একসঙ্গে জমায়েত করতে পারবেন, সে সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক।

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের মতে, মানুষের চাপে কাজ হয়েছে। আমরা এবং উত্তরপ্রদেশের বাঙালিরা যোগী সরকারের পুজো বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম। সেই চাপের কাছে হার মানলেন যোগী।'

নতুন ঘোষণায় রাজ্যের বাঙালি পুজো কমিটিগুলির মুখে ফের হাসি ফুটেছে। সময় বেশি নেই, তাই সব নিয়ম মেনে এখন পুজোর কাজে নেমে পড়েছেন প্রবাসী বাঙালিরা।


No comments:

Post a comment

loading...